শেফাইল উদ্দিন :

কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মিয়ানমার থেকে অবৈধ পথে আনা ১০টি চোরাই গরু ও চোরাচালানে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় সিরাজুল ইসলাম (২৫) নামে এক চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত গরুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৬ মে) রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে ঈদগাঁও ইউনিয়নের মেহেরঘোনা ৪ নম্বর ওয়ার্ডস্থ একটি এলপিজি পেট্রোল পাম্পের সামনে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অভিযান চালানো হয়।

গ্রেফতারকৃত সিরাজুল ইসলাম রামু থানার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের উখিয়ারঘোনা এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে। এ ঘটনায় আরও দুই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ এটিএম সিফাতুল মাজদার (ওসি)-এর নির্দেশনায় এসআই (নিরস্ত্র) অচিন্ত কুমার দে’র নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহাসড়কে চেকপোস্ট বসায়। এ সময় রামুর পানিরছড়া বাজার দিক থেকে আসা একটি সন্দেহভাজন পিকআপ ভ্যানকে থামার সংকেত দেওয়া হলে গাড়ির পেছনে থাকা দুই ব্যক্তি দ্রুত ধানক্ষেতের মধ্য দিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে পুলিশ চালক সিরাজুল ইসলামকে আটক করে পিকআপে তল্লাশি চালিয়ে ৭টি লাল ও ৩টি সাদা রঙের মোট ১০টি বলদ গরু উদ্ধার করে। জিজ্ঞাসাবাদে আটক চালক স্বীকার করেন, সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মিয়ানমার থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে গরুগুলো এনে ঈদগাঁও বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল।

জব্দকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে—

১০টি বলদ গরু, আনুমানিক মূল্য ১৫ লাখ টাকা।

একটি ইসুজু জাপান পিকআপ ভ্যান (রেজি: ভোলা-ড-১১-০৪১১)।

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত সিরাজুল ইসলাম ও পলাতক দুই অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে ‘দ্য স্পেশাল পাওয়ারস অ্যাক্ট ১৯৭৪’-এর ২৫-B(b)/২৫-D ধারায় ঈদগাঁও থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঈদগাঁও থানার অফিসার্স ইনচার্জ জানান, পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান রোধে ঈদগাঁও থানা পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে।